অধ্যক্ষের বাণী
Print Admit Card      
অধ্যক্ষের বাণী

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।
“সুপ্ত মেধার সুষ্ঠু বিকাশ”- এ লক্ষ্যকে সামনে রেখে ১৯৭৮ খ্রিষ্টাব্দে প্রতিষ্ঠিত টঙ্গী পৌর কিন্ডারগার্টেনটি হাঁটিহাঁটি পা পা করে বর্তমানে সফিউদ্দিন সরকার একাডেমি এন্ড কলেজ নামে শুধু গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনেই নয়, সারাদেশে খ্যাতি অর্জন করেছে। এ স্বনামধন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ব্যাপক উন্নয়নে প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে অদ্যাবধি যাঁরা বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান রেখেছেন এবং রাখছেন তাঁদের প্রতি আমি গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি। আমি বিশেষভাবে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি এ প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নের রূপকার, ভাওয়ালবীর, মহাননেতা শহিদ আহ্সান উল্লাহ মাস্টার,এমপি’র যোগ্য উত্তরসুরি, তারুণ্যদীপ্ত ও সৃজনশীল চিন্তার অধিকারী যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী, আলহাজ মো. জাহিদ আহ্সান রাসেল, এমপি মহোদয়কে যিনি এ প্রতিষ্ঠানের আধুনিকায়নে প্রভূত অবদান রেখেছেন। তিনি শত ব্যস্ততার মাঝেও এ প্রতিষ্ঠানের সার্বক্ষণিক খোঁজ-খবর রাখেন। সফিউদ্দিন সরকার একাডেমি এন্ড কলেজ যেন তাঁর আত্মার আত্মীয়। ২০০৯ সালে তিনি এ প্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডির সভাপতির দায়িত্বভার গ্রহণ করে ২০১৬ সালের জুলাই মাস পর্যন্ত তা নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করে গেছেন। তাঁর গতিশীল নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠানের উল্লেখযোগ্য উন্নতি সাধিত হয়েছে। তিনি প্রতিষ্ঠানের আমূল পরিবর্তন আনতে সক্ষম হয়েছেন। এ প্রতিষ্ঠানটিতে শিক্ষার্থীর সংখ্যা বর্তমানে প্রায় ৮০০০। তাছাড়া ২০০ শিক্ষক-কর্মচারী মিলে সফিউদ্দিন সরকার একাডেমি এন্ড কলেজ একটি বৃহৎ পরিবার। প্রতিমন্ত্রী মহোদয় গভর্নিং বডির দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই শিক্ষার্থী টিউশন ফি যেমন কমিয়েছেন, তেমনি শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা গড়ে প্রায় ৩০০% পর্যন্ত বৃদ্ধি করেছেন। এ প্রতিষ্ঠানে তিনিই প্রথম শতভাগ উৎসব ভাতা ও শিক্ষক-কর্মচারীদের বাড়িভাড়া চালু করেন। মন্ত্রী মহোদয়ের পরামর্শক্রমেই বৈশ্বিক মহামারি করোনাকালেও এ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা বৃদ্ধি করা হয়েছে, যা একটি অনন্য নজির স্থাপন করেছে। তাঁর নেতৃত্বেই এ প্রতিষ্ঠানের ১০ তলা ভিত বিশিষ্ট ৬ তলা ভবন নির্মিত হয়েছিল। এ ভবনটি বর্তমানে অত্যাধুনিক দুটি লিফট্ সংযোজনসহ ১০ তলা ভবনে রূপান্তরিত হয়েছে। ফলে, এলাকার অধিক ছাত্র-ছাত্রী ঐতিহ্যবাহী এ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নের সুযোগ পাচ্ছে, পাবে এবং পাশাপাশি অনেকেরই শিক্ষক-কর্মচারী হিসেবে কর্মসংস্থানের সুযোগও সৃষ্টি হয়েছে। মাননীয় প্রতিমন্ত্রী মহোদয় এখন গভর্নিং বডির সভাপতির দায়িত্বে না থাকলেও প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে যেকোনো পরামর্শ বা ভূমিকা রাখার ব্যাপারে সদা আন্তরিক। আমি প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষের পদে দায়িত্বপ্রাপ্ত হয়ে গভর্নিং বডিসহ সকলের সহযোগিতায় বিভিন্ন কর্ম-পরিকল্পনা হাতে নিয়ে তা বাস্তবায়ন করছি। গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের মধ্যে আউচপাড়া হলো একটি অন্যতম জলাবদ্ধ এলাকা। এ জলাবদ্ধতা থেকে সফিউদ্দিন সরকার একাডেমি এন্ড কলেজকে মুক্ত রাখার জন্য পুরাতন ভবনের নিচতলা উঁচুকরণ এবং আধুনিকায়নের জন্য টাইলস ফিটিং করেছি। প্রতিষ্ঠানের পুরাতন ভবনের চারতলার অডিটোরিয়ামটি সম্পূর্ণ নতুন ডেকোরেশনে আধুনিকায়ন করেছি। আশা করি, অচিরেই পুরো ভবনটিরই আধুনিকায়ন সম্ভব হবে। মাননীয় প্রতিমন্ত্রী মহোদয়ের বদৌলতে এ প্রতিষ্ঠানে বর্তমানে ৩ কোটি টাকা ব্যয়ে ৪ তলা একটি অত্যাধুনিক আইসিটি ভবন নির্মিত হয়েছে। এছাড়াও ছাত্র-ছাত্রীদের সুবিধার্থে প্রতিষ্ঠানে একটি সুরম্য ও সুদৃশ্য গেইট নির্মিত হয়েছে। ইতোমধ্যে ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য পুরাতন ভবনে ২৪ টি ওয়াশরুম নতুন করে নির্মিত হয়েছে। প্রতিষ্ঠানের উত্তর পার্শ্বস্থ ভবনের পূর্ব পাশ সম্প্রসারণ করা হয়েছে। এর ফলে অফিস কাউন্টার, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রণকক্ষ, ক্লাসরুম, লাইব্রেরিকক্ষ সম্প্রসারিত হয়েছে। একই সঙ্গে সম্প্রসারিত প্রত্যেক ফ্লোরে ২টি করে ওয়াশরুমও নির্মিত হয়েছে। ছাত্র-ছাত্রীদের একাডেমিক কার্যক্রমের পাশাপাশি আমি তাদের সহশিক্ষা কার্যক্রমের প্রতি বিশেষ নজর দিচ্ছি। এজন্য প্রতিষ্ঠানে ডিবেটিং ক্লাব, সায়েন্স ক্লাব ও ফটোগ্রাফি ক্লাব প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে, যা শিক্ষার্থীদের মেধা ও মননশীলতা বিকাশে ভূমিকা রাখছে। এ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের আন্তরিক সহযোগিতায় বৈশ্বিক মহামারি করোনাকালীন শিক্ষাকার্যক্রম অব্যাহত রাখার লক্ষ্যে অনলাইন ক্লাস পরিচালনা করেছি যা অদ্যাবধি অব্যাহত রয়েছে এবং একই সঙ্গে রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন অনুষ্ঠানাদি বর্তমানে ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বর্তমানে অত্যাধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে এ প্রতিষ্ঠানের সকল কার্যক্রম পরিচালনাসহ অভিভাবকদের সুবিধার্থে ঘরে বসেই অনলাইন গেটওয়ের মাধ্যমে তারা যেন তার সন্তানের যাবতীয় ফি পরিশোধ করতে পারে ইতোমধ্যে সে ব্যবস্থা আমি করে দিয়েছি।

শিক্ষার্থীরা যাতে সংস্কৃতিচর্চা করতে পারে তারও ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানে বাৎসরিক বিজ্ঞানমেলা, বিতর্ক প্রতিযোগিতা এবং বিতর্ক ও ফটোগ্রাফি ওয়ার্কশপ আয়োজনের ব্যবস্থা করেছি। এর ফলে শিক্ষার্থীরা গুরুত্বপূর্ণ প্রতিযোগিতায় পুরস্কার প্রাপ্তির মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের সুনাম বৃদ্ধি করছে। শিক্ষার্থীরা যাতে আর্তমানবতার সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করতে পারে সেজন্য আমি প্রতিষ্ঠানে রেড ক্রিসেন্টের মাধ্যমে ইউনিট গঠন করে তাদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করে দিয়েছি। প্রত্যেক শ্রেণিকক্ষসহ পুরো প্রতিষ্ঠানটিকে এখন সিসি টিভি ক্যামেরার আওতায় আনা হয়েছে। সমগ্র প্রতিষ্ঠানকে নিয়ন্ত্রণ করার লক্ষ্যে কেন্দ্রীয় সাউন্ড সিস্টেমের আওতায় আনা হয়েছে। ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুমেরও ব্যবস্থা করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে আমি সব শ্রেণিকক্ষকে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসে রূপদান করবো ইন্শাআল্লাহ। সকল শিক্ষককে প্রযুক্তি নির্ভর করার জন্য আমি সময়োপযোগী যথাযথ প্রশিক্ষণের সুযোগ দিয়েছি এবং দিচ্ছি। আমাদের যোগ্য গভর্নিং বডি ও দক্ষ প্রশাসন যৌথভাবে কর্ম-পরিকল্পনা গ্রহণ করে তা বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। তাঁদের বলিষ্ঠ ভূমিকার কারণে উপরিউক্ত কাজগুলো আমি দ্রুততম সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করতে সক্ষম হচ্ছি।

শিক্ষক-শিক্ষিকাদের কিছু যৌক্তিক দাবি সময়ের সাথে সাথে সামনে আসে। আমি তাদের এ দাবিগুলো সময়োপযোগী বিবেচনা করে আন্তরিকতার সাথে সমাধান করবো বলে আশা পোষণ করছি। এ বিশাল পরিবারের ভালো-মন্দ দেখার দায়িত্ব সুচারুভাবে পালন করা আমার একার পক্ষে অসম্ভব। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শীর্ষস্থানে উপনীত হয়। আমি এ প্রতিষ্ঠানের সাথে সম্পৃক্ত সকলের আন্তরিক সহযোগিতা ও পরামর্শ কামনা করছি। দায়িত্ব ও কর্তব্যে অবিচল থেকে আমি যেন আমার আন্তরিকতা, নিষ্ঠা, সততা, আদর্শ ও ন্যায়পরায়ণতাকে সর্বোচ্চ স্থান দিতে পারি এ প্রার্থণা করছি মহান আল্লাহপাকের দরবারে। সবার প্রতি রইলো আন্তরিক প্রীতি ও শুভেচ্ছা।

 

মোঃ মনিরুজ্জামান
অধ্যক্ষ ও সদস্য সচিব
সফিউদ্দিন সরকার একাডেমি এন্ড কলেজ

নোটিশ বোর্ড

সবগুলো পড়ুন ...

ফেসবুকে আমরা
প্রয়োজনীয় লিংকস

ভিজিটর সংখ্যা
100
as on 21 Jul, 2024 01:52 AM
© এডুটেক স্কুল সফটওয়্যার, টেক বিপিও প্রো™